হিন্দুদের দেশত্যাগ নিয়ে সুশীল সমাজের আষাঢ়ে গল্প এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন সংখ্যালঘুদের হীনমন্যতার পরিচয়।



বাংলাদেশ থেকে অনেক হিন্দুরা স্ব-উদ্যোগে ইন্ডিয়া চলে যাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের তেমন কিছু করার নেই, কারণ মাইগ্রেশন একটি বহুল প্রচলিত প্রাগৈতিহাসিক প্রক্রিয়া। আদি মানুষ উৎপত্তি (হোমো স্যাপিয়েন্স-দের উদ্ভবকে বোঝায়) আফ্রিকার বতসোয়ানায়। জলবায়ূ পরিবর্তণের আগে তারা সেখানে প্রায় 70 হাজার বছর বসবাস করেছিলো। জলবায়ূ পরিবর্তণই তাদের কে পৃথিবীর বিভিন্ন যায়গায় দেশান্তর হতে বাধ্য করেছে। এখানে জলবায়ু একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। 



 আর্য জাতি সদূর পারস্য থেকে ভারত বর্ষে আগমনেরও বিভিন্ন কারণ ও প্রভাবক রয়েছে। বাংলাদেশ
থেকে হিন্দুরা যে ভারতে মাইগ্রেশন করে এখানেও বিভিন্ন প্রভাবক তাড়নার কাজ করে। এই প্রভাবকের মধ্যে অন্যতম হলো- ভালো জীবন যাপনের চেষ্টা, ভবিষ্যৎ আর্থিক সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা, উন্নত রাষ্ট্রে (ইউরোপ, আমেরিকা) গমণে সহজ ভিসা প্রাপ্যতা, মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক ভিসার সহজ লভ্যতা এবং ধর্মীয় র্তীথ স্থানের আধিক্যতা ইত্যাদি। বাংলাদেশের হিন্দুরা ধর্মীয় তীর্থস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশে তেমন টান উপভোগ করেনা। তারা ভাবে ইন্ডিয়াতেই সব। সেখানে পুণ্যাহ করার যথেষ্ট তীর্থ স্থান রয়েছে। ভারতের বেঙ্কটেশ্বর মন্দির, সিমহাছালাম মন্দির, কনকা দূর্গা মন্দির, সোমনাথ মন্দির, অমরনাথ গুহা মন্দির, দূর্গা মন্দির, ইসকন মন্দির, কেদারনাথ মন্দির, কামাখ্যা মন্দির, বিষ্ণুপদ মন্দির  ইত্যাদি তাদের কাছে মুসলমানদের কাবা ঘরের মত। বাংলাদেশের নাঙল কোট আর গঙ্গার পানি তাদের পোষায় না। কারণ নাঙল কোট আর গঙগার পানি ওপারের দাদারা দূষিত ও অপবিত্র করে দেয়, তারপর তা ভাটিরটানে চুইয়ে চুইয়ে বাঙালায় আসে। সেই পানিতে আবার মুসলমানের স্পর্শ লাগে। এগুলা ভাবা যায়।

আমাদের দেশে কিছু বিশেষ + অজ্ঞ= বিশেষজ্ঞ আছে! যারা সংখ্যালঘু নির্যাতন কে অতিরঞ্জিত করে অহেতুক ক্যাচাল পারে। তাদের ধারণায় বদ্ধমূল হয়েছে যে, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে চিক্কুর বাক্কুর দিলে মিডিয়াতে হাইলাইটস পাওয়া যাবে, কথিত সু-চীল ভেক ফরজে আইন হবে! তবে এই সমস্ত আতেলদের নিয়ে সাধরণ মানুষদের ধারণা এই যে, তারা নিয়মিত দাদাবাবুদের কাছ থেকে ভাতা পায়। এই ভাতা যায়েজ করার জন্য তাদের গলায় সময়ে সময়ে পে-পু করে।  
যে সমস্ত হিন্দুরা উন্নত জীবন লাভের আশায় মাইগ্রেশন করে তাদের নিয়ে রাষ্ট্রের না ভাবলেও চলবে। কারণ রাষ্ট্রীয় আইনে স্বাভাবিক নিয়মে মাইগ্রেশন কে হারাম করা হয়নি। এখন কথা হলো রাষ্ট্রঃ
(১) সংখ্যালঘুদের মাইগ্রেশন ঠেকাবে?
(২) তাদের সাংবিধানিক কাঠামোতে স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করবে? 

এখানে রাষ্ট্র দুটিই করতে পারে তবে শেষেরটি করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রাষ্ট্রের পর দেশের প্রতিনিধিত্বশীল
তার আগে যে সমস্ত হিন্দুরা উন্নত জীবন লাভের আসায় দেশ ত্যাগ করে তাদের মধ্যে উন্নত দেশ প্রেম সদা জাগ্রত করুক। তারপর দেখুক কতজন হিন্দু সংখ্যাগুরু দ্বারা নির্যাতিত হয়ে বাঙালা ছেড়ে যায়। অনেকে বলতে পারেন বাঙলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে! আমার কথা হলো সংখ্যালঘু কোন দেশে নির্যাতন হয়না? আমেরিকায় মসজিদে ঢুকে গুলি করে পাখির মত মানুষ মারে, ইংল্যান্ডে সাদা চামড়ার সন্ত্রাসীরা মুসলমানদের প্রায়ই হত্যা করে, চাইনায় ইউঘুর মুসলমানরা নির্যাতনের খড়ঙ্গ পোহাচ্ছে, ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলার ক্ষত এখনো দগদগে।তাছাড়া ভারতে সবচেয়ে অনিরাপদ সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়।  সেখানে উগ্রবাদী হিন্দুদের দ্বারা প্রতিনিয়ত নিরীহ মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। সামান্য গরু খাওয়াকে কেন্দ্র করে মানুষ খুন পর্যন্ত করছে।  কই কোন ভারতীয় মুসলমান তাদের দেশ ছেড়ে পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে আসার নজির নেই। বাংলাদেশ থেকে যারা যাচ্ছে তারা হয়- উন্নত জীবন লাভের আশায় যাচ্ছে, নয়তবা ধর্মকর্মে- ধার্মিক হওয়ার জন্য যাচ্ছে। এই যাওয়া দোষের কিছু না।

সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়টি নিয়ে আমাদের দেশে একশ্রেণির মানুষের অতি এলার্জি আছে। আমাদের দেশে প্রতি বছর পূজার সময় দূর্বৃত্ত কর্তৃক মূর্তি ভাঙ্গা হয়, মন্দিরের বেদির ক্ষতি সাধন করা হয়, ক্ষেত্র বিশেষ ক্ষমতাসীন দ্বারা জায়গা জমি বেদখল করা হয়- তা অস্বীকার করার উপায় নেই বা এটা দিবা সত্য। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে যা প্রচার করা হচ্চে সেখানে কিন্তু নারী নির্যাতন বা নারীদের হয়রানির বিষয়টি জ্ঞাত এবং অজ্ঞাতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটি ভাবার বিষয়। তাই দেশের প্রতিনিধিত্ব অংশের উচিত ধর্মীয় সহিংসতার সময় নারীদের হয়রানির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা।
কিন্তু রাষ্ট্র চাইলেই সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা আইন তৈরীর ব্যবস্থা নিতে পারেন না। কেননা গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী সকল মানুষ সমান, সকলেই বাংলাদেশী।রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য একই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তাছাড়া আইন কাউকে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ কিংবা মুসলমান হিসেবে দেখেনা। রাষ্ট্র চাইলে বা সদিচ্ছা থাকলে সকলের ধর্ম পালন নির্বিঘ্ন করতে পারে এবং এটাই করা উচিত।

আমাদের দেশে একশ্রেণির অতিউৎসাহী কথিত ধর্মকামী মানুষ ভিন্নমতাবলম্বীদের উপসানালয় কিংবা মূর্তির ক্ষতি সাধন করে যা ফৌজদারী রাষ্ট্রীয় অপরাধ। এটা দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এক শ্রেণির আতেলরা একে মানবিক মূল্যবোধের ক্ষয়, মানুষের স্বাধীন জীবপ যাপনে হস্তক্ষেপ এবং স্বাধীন ধর্ম পালনে বিঘ্ন- এই সকল অপরাধ না ভেবে সাম্প্রাদায়িক অপরাধবোধ হিসেবে গলাবাজি করতে উৎসাহবোধ করে। এদেশের মিডিয়াও আগপাছ না ভেবে সকল কিছুকে সাম্প্রাদায়িক অপরাধ হিসেবে দেখাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। মিডিয়া এবং অতেলদের অহেতুক তর্জন গর্জণে সরকার কে অনেক সময় কিছুটা বে-কায়দায় পড়তে হয়। কারণ সরকারেও উভয় পক্ষের (সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘুর) মনোভাব রক্ষা করে চলতে হয়। ফলে বিষয়টি মানবিক না হয়ে হয়ে উঠে সাম্প্রাদায়িক এবং রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতার ইস্যু।

এখন যদি সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা আইন করা হয় তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠের দিক থেকে দাবি উঠবে ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননাকর) আইন প্রণয়নের। তখন সরকারকে মেজরিটির দিকে লক্ষ রেখে সে আইনও তৈরী করতে হবে। ফলে আমাদের দেশে বিজ্ঞান মনস্কা কিংবা মুক্ত চর্চার নামে যারা অপরের বিশ্বাসের আঘাত করেন তখন তাদের কল্লায় ফাঁসির রশ্মি মোবারক জুটতে পারে।
তাই আমাদের উচিত এই ধরণের অপরাধগুলো সাম্প্রাদায়িক অপরাধ না ভেবে রাষ্ট্রীয় অপরাধ ভাবা। রাষ্ট্রীয় অপরাধগুলো প্রচলিত আইনে বিচার করে উপর্যুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।

পরিশেষে, দেশের সকল ধর্মের, সকল বর্ণের এবং সকল গোত্রের মধ্যে সম্প্রতির বন্ধুন গড়ে উঠুক। এগিয়ে যাক সোনার বাংলাদেশ।

মন্তব্যসমূহ